তেলের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি ঠেকাতে প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “এক শ্রেণির মানুষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তেল বোতলে ভরে, ড্রামে ভরে রেখে আবার তেল নিতে আসছে। আমরা এতদিন সফট (নমনীয়) লাইনে ছিলাম। আমরা বলেছি, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে প্রয়োজনবোধে কঠোর শাস্তি আমরা প্রয়োগ করব এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”
জ্বালানি তেলে সংকট রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনকে বলছি, আপনারা কঠোর হোন। আপনাদের সাথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা থাকবেন।’
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, “জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় ও কার্যকরী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। জুলাই সনদ কার্যকর করতে পারবে বর্তমান এই পার্লামেন্ট। জুলাই সনদ কীভাবে কার্যকর হবে সেটা জুলাই সনদের মধ্যেই বলে দেওয়া আছে। সুতরাং, জুলাই সনদ হওয়া না হওয়া নিয়ে গণভোট বাতিল হওয়া নির্ভর করে না। এটা আমরা পার্লামেন্টে সুস্পষ্টভাবে বলেছি।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি জুলাই সনদকে হৃদয়ে ধারণ করে। বিএনপি জুলাই সনদকে চেতনায় ধারণ করে। জুলাই সনদ এদেশের ২০২৪ এর জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে লিখিত।”
তিনি আরো বলেন, “জুলাই সনদই বলছে, আমাকে বাস্তবায়ন করো সংবিধান সংশোধনের মধ্যদিয়ে। এটা জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে লিখিত আছে। সুতরাং, যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, এটা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য।”
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এই যে জুলাই গণভোট অধ্যাদেশ বলছেন, এটাও তো রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ। এইগুলো মানতে পারবেন, আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করতে চান। অথচ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় উনারা বয়কট করলেন, বললেন উনারা ভাষণ শুনবেন না। এইটা হলো জামাতি চরিত্র, এইটা হলো মুনাফিকি চরিত্র।”
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।