ইলিশ রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ‘‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জাতীয় মাছ। সরকার এ সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে।’’
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ২০২৬ অর্থবছরের ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় ইলিশের অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল মাসে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় জেলেদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুর উপজেলা হয়ে চাঁদপুরে ষাটনল পর্যন্ত একশত কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ রয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত ভালো। দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারণে সরকার প্রতিটি জেলেকে ৩ হাজার টাকার খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।’’
জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা সবসময় মাছ শিকার করেন। এই দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখুন। এ সময় বিশ্রাম নিন, জাল বুনুন, নৌকা মেরামত করুন এবং পরবর্তী সময়ে মাছ ধরার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘পদ্মা নদীর ইলিশের চেয়ে মেঘনা নদীর ইলিশের দাম বেশি এবং স্বাদেও উৎকৃষ্ট। পদ্মার ইলিশে কিছুটা লালচে ভাব থাকে। অনেকে ঢাকায় গিয়ে পদ্মার ইলিশের কথা বলেন। আসলে প্রকৃত ইলিশ হচ্ছে মেঘনার ইলিশ।’’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা প্রশাসক মেহেদী হাসান এবং পুলিশ সুপার আবু তারেক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শাহাবুদ্দিন সাবু।