লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মিজানুর রহমান (২৮) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমতপুর সীমান্তের ৮২৬/৩-এস পিলারের কাছে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রহমতপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে নিজের ধানক্ষেতে পানি দিতে যান। এ সময় ওপারে টহলরত ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার সরকারপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে উদ্দেশ্য করে ভুট্টা খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে।
মিজানুর সরল বিশ্বাসে তাদের ভুট্টা দিতে এগিয়ে যান। বিএসএফ সদস্যরা অতর্কিতে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। প্রাণভয়ে পালানোর সময় একটি গুলি তার ঘাড়ে বিদ্ধ হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত গ্রামবাসী ধাওয়া করে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে সহদেব বর্মণ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে আসেন। আটক সহদেব ভারতের মেখলিগঞ্জ থানার ফুলকাডাবরি গ্রামের বাসিন্দা। পরে তাকে বিজিবির মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “সীমান্তে গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আহত ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, “বিএসএফ-এর এই অনাকাঙ্ক্ষিত গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বিএসএফ-এর সঙ্গে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।”