লিবিয়ার বন্দিশালায় মানবপাচারকারীদের নির্যাতনে জহিরুল ইসলাম নামে মাদারীপুরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উন্নত জীবনের আশায় ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জহিরুল ইসলাম মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ধুলগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কৃষিকাজ করে পরিবার চালাতেন। পরিবারে তার স্ত্রী সাথী আক্তার এবং ফারজানা আক্তার (১০) ও ফাইজা আক্তার (৬) নামের দুটি কন্যা সন্তান আছে।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানিয়েছেন, একই এলাকার হানিফ মাতুব্বরের ছেলে ইতালি প্রবাসী জাকির মাতুব্বরের প্রলোভনে পড়ে প্রায় পাঁচ মাস আগে ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন জহিরুল। দালাল চক্র তাকে স্বল্প সময়ে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে সৌদি আরব হয়ে তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ডাসার উপজেলার বীরমোহন এলাকার তারেক মন্ডলের নিয়ন্ত্রিত একটি বন্দিশালায় তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ভিটে-মাটি বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করেন স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে জহিরুলের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয় তার পরিবার। একই ঘটনায় ইমামুল সৈয়দ নামের আরেক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, জহিরুলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে দালাল জাকির মাতুব্বরের পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিহতের স্ত্রী সাথী আক্তার দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি তার স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঘটনাটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”