চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক দুর্যোগে জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম এবং মাঠে থাকা ভুট্টা ও শাকসবজি নিয়ে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে এবং ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। যদিও শিলার স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়, তবে এর তীব্রতা আমের গুটি ও উঠতি ফসলের ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। শিলার আঘাতে গাছের আমের গুটি ঝরে পড়েছে এবং অনেক আমে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
শিবগঞ্জের আম চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, গাছের নিচে আমের গুটি পড়ে আছে এবং যেগুলোতে শিলার আঘাত লেগেছে, সেগুলো বড় হলেও পচে যাওয়ার ভয় রয়েছে। এতে আমের গুণমান নষ্ট হয়ে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন গোমস্তাপুরের ভুট্টা চাষি হবিবুর রহমান। তিনি জানান, বাতাসের ঝাপটা আর শিলার কারণে তার কয়েক বিঘা জমির ভুট্টা গাছ হেলে পড়েছে, যা ফলনের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দিতে না পারলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিসুল হক দুলাল বলেন, মাঠে এখন আম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি রয়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে এসব ফসলের কিছুটা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তাদের টিম ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠে কাজ করছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, জেলার ভোলাহাট বাদে বাকি চার উপজেলায় বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও হালকা ছোট আকারের শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টিতে আমসহ খেতের ফসলের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।