ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট এবং যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাহালগাঁও বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে লেয়ার মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। ওই কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা আওয়ামী লীগের সময় তাদের নেতাকর্মীরা বিনামূল্যে নিয়ে বিক্রি করতেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষ্ঠা নিতেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়ায়) আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন জয়লাভ করেন। এরপর সেখানার মুরগির বিষ্ঠা কারা নেবেন তা নিয়ে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাস, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা করে দুই শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে যায়। তারা সেখান থেকে দুই ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে যায়।
পরে কাহালগাঁও বাজারে ডুকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট এবং যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়।
সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির ব্যবস্থাপক সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা মুরগির বিষ্ঠা বিনামূল্যে দিয়ে দেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের নেতাকর্মীরা মুরগির বিষ্ঠা নিতেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা বিষ্ঠা নিত। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে বিষ্ঠা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সম্প্রতি সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন আমাকে একদিন ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, বিষ্ঠা যেন জামায়াতের নেতাকর্মীদের দেওয়া হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিষয়টি আমি ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশকে অবগত করেছি।”
প্রতি দেড় মাসে ছয়টি শেড থেকে প্রায় আট লাখ টাকার বিষ্ঠা উৎপাদন হয় বলে জানান ব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, “এটি দিয়ে সাধারণত মাছের খাবারসহ অন্যান্য জিনিস তৈরি হয়।”
এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়ায়) আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলনের ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় ফুলবাড়িযা উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কাহালগাঁও বাজারে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় জামায়াত জড়িত নয়। উপজেলা জামায়াতের পক্ষ খেকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এ ঘটনায় দলীয়ভাবে উপজেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মো. আ. মজিদকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক বলেন, “কাহালগাঁও বাজারের ঘটনা সন্ত্রাসী ও ডাকাতি কার্যক্রম। জামায়াত যে একটি সন্ত্রাসী দল, সেটা আবারো প্রমাণ হলো। বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।”