সারা বাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৩৯ হেক্টর জমির ফসল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় মঙ্গলবার বিকেলে হওয়া শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার মোট ৭ হাজার ১৩৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলাবৃষ্টির কবলে পড়েছে ৫ হাজার ৪৫১ হেক্টর আম বাগান। এছাড়াও ১ হাজার ৫৩৬ হেক্টর বোরো ধান, ১৫০ হেক্টর সবজি এবং ২ হেক্টর পান বরজের ক্ষতি হয়েছে। এই শিলাবৃষ্টিতে মাঠে থাকা কৃষকের আবাদ করা ভুট্টার ক্ষতি হয়নি বলেও নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে  ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বিক্ষিপ্তভাবে জেলার চারটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়, তবে এর স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়। বৃষ্টিতে আমের গুটি ঝরে পড়ার পাশাপাশি ধান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আম চাষি জহরুল হক বলেন, “শিলাবৃষ্টির পর বাগানে প্রচুর আমের গুটি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যেসব আমে শিলার আঘাত লেগেছে, সেগুলো নিয়ে আমরা চিন্তিত। কারণ, এসব আমের মান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।”

নাচোল উপজেলার ধান চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, “আর কদিন বাদেই ধানের শীষ ফুটতো, কিন্তু এই সময়ে বৃষ্টি ও শিলা পড়ার কারণে গাছ নুয়ে পড়েছে। আগের মতো ফলন পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।” 

গোমস্তাপুরের সবজি চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, বাতাসের ঝাপটা আর শিলার কারণে তার কয়েক বিঘা জমির সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, যা বাজারে বিক্রির অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।”

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েন স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিসুল হক দুলাল বলেন, “কৃষকদের বাগান ও ফসলের মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আমে যাতে পচন না ধরে, সেজন্য কৃষককে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”   চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, “মঙ্গলবারের বিকেলের আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমের। শিবগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর আম বাগানের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত চার উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের সবধরণের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। এই সংকটে ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে।”