সারা বাংলা

মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, যুবদল নেতাকে গলা কেটে হত্যা

রংপুরে মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে রাকিব হাসান (২০) নামে ওয়ার্ড যুবদলের এক নেতাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মমিন মিয়া নামের এক মাদক কারবারি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর আগেও ওই মাদক কারবারির হামলার শিকার হন রাকিব। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর শহরের মাছুয়া পাড়া থেকে ওই যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত রাকিব হাসান রংপুর নগরীর বৈরাগী পাড়ার আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। 

রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ বলেছেন, “মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাকিবের পা ভেঙে দেয় মমিন। সে সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় রাকিবকে। গতকাল বুধবার এক চায়ের দোকানে রাকিব মমিনের উদ্দেশে গালি দিলে মমিনের স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক হয়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে রাকিবকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মমিন।” হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত রাকিবের বাবা।

রাকিবের পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা নিয়ে মমিনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল রাকিবের। তারই জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।” সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, তাঁতীপাড়ার বাসিন্দা মমিন (৪২) ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিবের গলায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাকিবের।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেছেন, “বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ ছিল। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে।”

তিনি জানান, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে। থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

গত বছর নভেম্বরে মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রাকিবের পা ভেঙে দেয় মমিন। সে সময় মমিনকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ।