অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় ২ বছরের সাজা হয়েছিল কলেজ শিক্ষক আবু হেনা মোস্তফা জামানের। সাজা এড়াতে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে, শেষরক্ষা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করেছে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে আবু হেনা মোস্তফা জামানকে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর মহানগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ।
আবু হেনা মোস্তফা জামান লালমনিরহাট শহরের থানা পাড়ার মৃত মনসুর আলীর ছেলে। তিনি আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সমাজকর্ম বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে নিজের কলেজের প্রাক্তন ছাত্র শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওই শিক্ষক। জামানত হিসেবে তিনি নিজের ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প দিলেও পরবর্তীকালে চাকরি দিতে ব্যর্থ হন এবং টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম মামলা করলে ২০১৯ সাল থেকেই ওই শিক্ষক কলেজে আসা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
গত ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই তৎকালীন যুগ্ম দায়রা জজ মো. এরশাদ আলী একটি মামলায় তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এদিকে, মামলা করেও টাকা উদ্ধার করতে না পারা শরিফুল ইসলাম আগেই মারা গেছেন।
শুধু শরিফুল ইসলাম নন, আরো অনেকের কাছ থেকে একইভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। এগুলোর মধ্যে চারটি মামলায় আদালত তাকে মোট প্রায় ২ বছরের কারাদণ্ড দেন।
অভিযোগ আছে, ২০১৯ সাল থেকে টানা ৬ বছর কলেজে অনুপস্থিত থাকলেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে নিয়মিতভাবে সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করেছেন আবু হেনা মোস্তফা জামান। সম্প্রতি সাধারণ শিক্ষকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বেতন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি (তদন্ত) সজিব বলেছেন, “আবু হেনা মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধে মোট ৬টি সিআর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এর মধ্যে চারটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তাকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”