প্রতি বছরের মতো এবারও বঙ্গোপসাগরে ইলিশের প্রজননের জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রচার অভিযান, সভা-সমাবেশ শুরু করেছে মৎস্য বিভাগ।
এ বছর সাগরে দস্যুদের উৎপাত, নৌকায় জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বেশিরভাগ জেলে সমুদ্রে যেতে পারেনি। কিছু সংখ্যক জেলে সাগরে গেলেও তাদের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ মেলেনি।
নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বণ্টন, গভীর সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর টহল বাড়ানো এবং তেল সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের জেলে দুলাল মাঝি বলেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকে সাগরে দস্যুদের উৎপাত বাড়ে। পাথরঘাটা, ভোলা ও চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন জেলেকে দস্যুরা ধরে নিয়ে যায়। পরে তারা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ বছর সাগরে আশানুরূপ মাছের দেখা মেলেনি। তিনি সাগরে প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানান।
পাথরঘাটা এলাকার জেলে মো. শহীদ বলেন, ‘‘দেড় মাস হয়েছে মহিপুরের খাপরাভাঙ্গা নদীতে আমাদের ট্রলার নোঙ্গর করা রয়েছে। ডিজেল না পাওয়ার কারণে আমরা সাগরে যেতে পারছি না। এখন আর সাগরে যাওয়ার সময়ও নেই। বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।’’
তিনি বলেন, ‘‘কীভাবে পরিবার চালাবো, সেটা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছি। শুনেছি, এ বছর সরকার ৭৭ কেজি করে চাল দিবে। এ চাল দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবার কোনোভাবে চালানো সম্ভব নয়।’’
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে প্রচারাভিযান ও সভা-সমাবেশ শুরু করেছেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন সমুদ্রে প্রশাসনের ব্যাপক নজদারির পাশাপাশি অসাধু জেলেদের জেল-জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তবে এই দুই মাসে জেলার নিবন্ধিত ৪৭ হাজার জেলের প্রত্যেককে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়ে জেলে সংগঠন থেকে লিখিত আবেদন জানালে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।