ফেনীর ওয়ান স্টপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ডা. নাসরীন আক্তার মুক্তার ভুল অস্ত্রোপচারে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি। ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থিসিয়া) ডা. মো. আবদুল্যাহ আব্বাসীকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. কামরুন নাহার রলি এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আমির খসরু।
জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ কে এম ফয়সাল। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইমাম হোসেন ইমু।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে দুই তদন্ত কমিটির সদস্যরা ওয়ান স্টপস মেটারনিটি ক্লিনিক ও ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে দীর্ঘ সাত বছর ধরে অনুমোদন ছাড়া অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়ায় সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. মো. আবদুল্যাহ আব্বাসী বলেন, ‘‘প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে আমরা সকালে ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। আশা করছি, দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’’
জেলা প্রশাসনের কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘সিজারের পর প্রসূতিকে ফেনী প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’’
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি আশা করেন, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে।
জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার (১৩ এপ্রিল) নাঈমা আক্তার লিজার পরিবার, হাসপাতালের মালিক ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।