উৎসবের নগর এখন পার্বত্য জনপদ। প্রতিটি ঘরে বিরাজ করছে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের আমেজ। উৎসবের দ্বিতীয় দিন সোমবার (১৩ এপ্রিল) চাকমা জনগোষ্ঠীর বিজু উপলক্ষে ঘরে ঘরে অতিথি আপ্যায়ন চলছে।
অতিথিদের ৩২ পদ কিংবা তার চেয়ে বেশি সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ ‘পাজন’ পরিবেশন করা হচ্ছে। চাকমাদের বিশ্বাস, এই পাজনে ওষুধি গুণ আছে। একদিনে সাত পরিবারে পাজন খেলে রোগমুক্তি পাওয়া যায় এমনটি বিশ্বাস তাদের।
রাঙামাটি শহরের গৃহিনী নমিতা চাকমা বলেন, “প্রাচীনকাল থেকে পাহাড়িদের সামাজিক উৎসবে মূল আকর্ষণ পাজন। অতিথিদের বিজু উৎসবে আপ্যায়ন শুরু হয় পাজন দিয়ে। শত বছর আগে পাহাড়িরা জুম ও বন থেকে সবজি সংগ্রহ করে পাজন রান্না করতেন। সংগ্রহ করা সেসব সবজির মধ্যে ৯০ শতাংশে ওষুধি গুণ রয়েছে।”
তিনি বলেন, “পাজনে সাধারণত কাঁচা কাঁঠাল, বিভিন্ন পাহাড়ি আলু, বাঁশ কোঁড়ল, ছোট কচু, তারা, আম, গোল আলু, টমেটো, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি, বেগুন, পেঁপে, শিম, কলা, ওল, লতি, লাউ, করলাসহ থাকে জুমের আরো বিভিন্ন সবজি। এসব উপকরণে শুঁটকি ব্যবহার করা হয়। টাটকা সবজি দিয়ে রান্না করা পাজন স্বাদে হয় অনন্য।”
পাজন রান্নায় ব্যবহৃত সবজি
চাকমা জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা জানান, বিজুর আগে পাহাড়ে পাজন রান্নায় নানা প্রস্তুতি চলে। পাজন রান্নার প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পাজন রান্নার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন নারীরা। গত ৬ এপ্রিল রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বৈসাবি মেলায় পাজন প্রতিযোগিতা হয়। যেখানে ১০ প্রতিযোগী অংশ নেন। মূলত কার পাজন ক্ষেতে বেশি সুস্বাদু হয় এ নিয়ে চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
সংবাদকর্মী বিহারী চাকমার মতে, “পাজন রান্না ও খাওয়ার প্রচলন হাজার বছর আগে থেকে। আগে পাহাড়িরা সবাই জুমিয়া ছিলেন। সে জন্য জুমের সবজির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তারা। পাহাড়িরা জানেন জুমের উৎপাদিত সবজির ওষুধি গুণ রয়েছে। সে জন্য জুমের সব সবজি মিশিয়ে রান্না হয় পাজন। তারা বিশ্বাস করেন, পাজন খেলে শারীরিকভাবে সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকা যায়।”