শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে জনবহুল এলাকাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে কাজের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সমাপ্ত ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং নতুন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় জনস্বার্থ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন মন্ত্রী।
সকালে তিনি পুকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত সংযোগ সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন। কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে প্রকল্প নেওয়ার সময় জনবহুল এলাকা বিবেচনায় রাখতে হবে।
পরে জাফলং ব্রিজ সংলগ্ন প্রস্তাবিত পুলিশ ফাঁড়ির স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে পুলিশ সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের তাগিদ দেন। পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস গাছ অপসারণ করে ফলদ বৃক্ষ রোপণের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ এবং উপজেলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য জমি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
সিলেটের তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ কেন্দ্রে ড্রাইভিং, ক্যাটারিং, প্লাম্বিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চীনা, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জ হাইটেক পার্কের অব্যবহৃত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেখানে রপ্তানিমুখী শিল্পনগরী গড়ে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
পাথর কোয়ারি চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে তিনি বীরমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচতলা একাডেমিক ভবন এবং জিসি সড়ক থেকে গহড়া দোয়ারীখেল সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুখ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।