নৃত্য, গান, আবৃত্তি আর লোকজ সংস্কৃতির নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পয়লা বৈশাখের দিনব্যাপী কর্মসূচিতে মিলেছে বাঙালি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আনন্দের আবহ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের একতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও রয়েছে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
নগরের ঐতিহাসিক সিআরবি শিরীষতলায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এতে সহযোগিতা করছে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব।
অন্যদিকে, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে নন্দনকানন কাটাপাহাড় লেন এলাকায় সকাল থেকে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৯৭৩ সালে এই সংগঠনের মাধ্যমেই চট্টগ্রামে প্রথম নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হয়েছিল।
আবৃত্তি ও সংগীতভিত্তিক আয়োজনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে বোধন আবৃত্তি পরিষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব চলছে। একই সময়ে কাজীর দেউড়ির সিজেকেএস মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নরেন আবৃত্তি একাডেমি।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ চট্টগ্রাম সোমবার রাতে বৌদ্ধ মন্দির সড়কে আলপনার মাধ্যমে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছে এবং পয়লা বৈশাখে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
আবাসিক এলাকাগুলোতেও বইছে বৈশাখের আমেজ। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে জাতিসংঘ পার্কে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। নগরের বাইরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বড় পরিসরের আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। একইভাবে পটিয়া সরকারি কলেজ মাঠেও নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।