পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ইলিশ ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের বকসহ বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব নিয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনুর আয়োজনে পৌর শহরের কলাপট্রি এলাকা থেকে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। সেটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
বাঙালির ইতিহাস, ঐহিত্য এবং সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর এমন জাঁকজমকপূর্ণভাবে ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় বাদ্যের তালে নাচে গানে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে শিশু-কিশোররা। শোভাযাত্রা চলাকালীন সাধারন মানুষের মধ্যে বাতাসা, নকুল দানা, খৈ, মোয়া ও মুড়িসহ মিষ্টি জাতীয় খাবার বিতরণ করা হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করা ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম হোসেন বলেন, “গত বছরও আমরা বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু, আজ নতুন নতুন যা কিছু দেখলাম সেগুলো গত বছর দেখিনি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখানে বিশাল একটি ইলিশ মাছ দেখেছি।”
কলাপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, “আজ রংধনুর বৈশাখী অনুষ্ঠানে যা কিছু দেখলাম তা এর আগে কখনো দেখিনি। বিশাল বড় মাছ, বড় বক, কৃষকদের পুরনো ব্যবহৃত মালামালসহ অনেক নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচিত হলাম। এখানে অংশগ্রহণ করে বেশ ভালই লেগেছে। আমরা প্রতিবছর এ ধরনের অনুষ্ঠান চাই।”
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনু’র সভাপতি জুয়েল শিকদার বলেন, “আমাদের পুরানো অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্ত প্রায়। অনেক খাবারও বিলুপ্ত। কৃষকদের হাল চাষ থেকে শুরু করে সক কাজে আধুনিকতার ছোঁয়া এসেছে। যুব সমাজকে মাদক থেকে ফেরাতে এবং আমাদের পুরনো ইতিহাস ঐতিহ্যকে তাদের সামনে তুলে ধরার জন্যই এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রায় ৩৫ বছর আগেও কলাপাড়াতে আমরা এই ধরনের অনুষ্ঠান করেছিলাম।”