সারা বাংলা

মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে ২০০ বছরের বৈশাখী মেলা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ছয়চিরি দীঘির পাড়ে চলছে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা। এ উপলক্ষে বসেছে লোকজ মেলা। যা স্থানীয়দের কাছে বৈশাখী মেলা নামেও পরিচিত। দুইদিনের এই মেলায় আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা আসছেন। তারা দোকান ঘুরে প্রয়োজীয় জিনিসপত্র কিনছেন। 

মেলার আয়োজকরা জানান, প্রায় ২০০ বছর ধরে চড়ক পূজা ও মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। দুইদিনের মেলায় অর্ধলাখ লোকের সমাগম ঘটে। 

মেলায় পসরা সাজিয়ে মাটির খেলনা, বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী, হাতের কাজের অলংকার বিক্রি করতে দেখা যায় দোকানিদের। পিঠা-পুলি, জিলাপি, মুড়ি-মুড়কি, চটপটি ও ফুচকার দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন রাইড মেলায় বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে মেলার পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রতি বছর চড়ক পূজা উপলক্ষে মেলার আয়োজন করা হয়। এটি অনেকের কাছে বৈশাখী মেলা হিসেবেও পরিচিত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে মেলা শেষ হবে।

মেলায় আসা রবিন্দ্র মল্লিক, সুমা, জয়ন্তি দে ও সুমন জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় প্রয়োজনীয় গৃহস্তালির অনেক পণ্য পাওয়া যায়। মেলা ঘুরে ঘুরে ক্রেতারা সেগুলো কেনেন। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে কিছুটা সময় অতিবাহিত করতে সবারই ভালো লাগছে।

মেলা থেকে হাতের শাঁখা কিনছেন এক নারী

মেলায় ঢাকা থেকে আসা শাঁখা-সিঁদুর বিক্রেতা রংসীপাল বলেন, “দুইদিনের মেলায় ভালো বিক্রির আশা নিয়ে এসেছি। আশা করছি, বেচাকেনা ভালো হবে।”

কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজার থেকে বাঁশ-বেতের তৈরি অনেক জিনিস নিয়ে এসেছেন দুলাল মিয়া। তিনি বলেন, “প্রতি বছর মেলায় অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। আমরা দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস পত্র বিক্রি করি। মানুষ খুঁজে নিয়ে যায়। এবারো এসেছি, প্রত্যাশা করছি কেনাবেচা ভালো হওয়ার।”

চড়কপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা আমরা বংশ পরম্পরায় ধরে রেখেছি। মেলায় অর্ধলাখ লোকের সমাগম ঘটে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন, আমরা তাদের সেবা দেই।”

মেলায় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার

কমলগঞ্জ থানার এসআই রাজিব রায় বলেন, “নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। সন্ধ্যার পরও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর থাকে। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষদের আকৃষ্ট করছে।”