প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছর পার করলেও নানা প্রতিকূলতার বেড়াজালে আটকা পড়েছে কুষ্টিয়া সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার। জনবল সংকট, অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে খামারটি তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৪টি পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে মাত্র চারজন কর্মরত আছেন। ম্যানেজার, অফিস সহকারী, পোল্ট্রি অ্যাটেনডেন্ট ও একজন গার্ডের ওপর ভর করেই চলছে পুরো খামারের কাজ। গুরুত্বপূর্ণ পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান, ইলেকট্রিশিয়ান, ড্রাইভার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এমনকি খামারের জন্য অপরিহার্য হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্টের কোনো পদই নেই।
স্থানীয় খামারি রফিকুল ইসলামের মতে, খামারটি যদি তার হারানো সক্ষমতা এবং পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায়, তবে কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পোল্ট্রি শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে খামারটির উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।
খামারের ব্যবস্থাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, মুরগির খাদ্য খাতের জন্য বার্ষিক ৫৮ লাখ টাকার চাহিদা থাকলেও অনুমোদন পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা। বাজেটের এই বড় ঘাটতির সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে ১১টি শেডের মধ্যে মাত্র চারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ৫০০ থেকে ৭০০ মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। এখান থেকে জেলার মাত্র ২০-২৫ জন খামারিকে মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
তিনি জানান, খামারটি লোকালয় থেকে দূরে হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সেটি বসতবাড়ির সন্নিকটে চলে এসেছে। ফলে মারাত্মক জীবাণু নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া হাঁস পালনের জন্য তৈরি শেডগুলোতে মুরগি পালন করতে গিয়ে কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পুরাতন ও অনুপোযোগী এই শেডগুলোতে মুরগি পালন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানান।