সারা বাংলা

গাইবান্ধায় লোডশেডিং, ভোগান্তিতে মানুষ

সারাদেশের মতো গাইবান্ধায় বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। এর মধ্যেই এ জেলায় চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কয়েকগুণ বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ছেন জেলা শহরসহ সাত উপজেলার বাসিন্দারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। দুই-একদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। গ্রাম কিংবা শহরে দিনরাত    ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রামের বোরো ধানের চাষিরা।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বোরো ধান আমাদের প্রধান ফসল। এ সময় জমিতে পানি রাখতে হয়। পানি না থাকলে ধানের সমস্যা হবে। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। ফলে পাম্পের সাহায্যে প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি।”

গাইবান্ধা শহরের ব্রীজরোডের ব্যবসায়ী ছবেদুল মিয়া বলেন, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চারবার বিদ্যুৎ যায়। ফ্রিজে রাখা মালামাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

শহরের চৌধুরী মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ আসে আর যায়। রাতে দোকান খোলা রাখা নিষেধ। তাই দিনের বেলায় বেচা-বিক্রি করতে হয়।  গরমের কারণে ক্রেতা কাপড় দেখার আগেই চলে যায়।”

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান বলেন, “গাইবান্ধা শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ঘাটতি রয়েছে আড়াই মেগাওয়াট। এ কারণে এলাকাভেদে লোডশেডিং হচ্ছে।”

গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সানজিদ কুমার বলেন, “এপ্রিলের শুরু থেকেই গরম বেড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে বোরো চাষের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে গ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ৬০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ৪০ মেগাওয়াট। ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।”