হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৫১ শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা জোরদার করতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। সংক্রামক ছড়িয়ে পড়ার এই বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্ত নিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম আট সদস্য বিশিষ্ট এই বোর্ড গঠন করেন। এই বোর্ডের সভাপতি করা করা হয়েছে হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিনকে।
হাসপাতাল পরিচালক একটি আদেশও দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। হাম-পরবর্তী জটিলতায় সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিনে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক আজিজুল হক, নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনজুর এলাহী, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আহমদ যায়নুদ্দীন সানী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শারমিনা আফতাব, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের ইউনিট প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. মিজানুর রহমান এবং কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রকিবুল হাসান রাসেদ।
রাজশাহী অঞ্চলে গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাম রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেই অন্যান্য রোগীর সঙ্গে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের চিকিৎসা চলছিল। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে মার্চের শেষ দিকে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, এটি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ একটি কার্যক্রম। রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ ধরনের বোর্ড গঠন করা হয়ে থাকে।
রামেক হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬১৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৪৫ শিশু।