গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় হঠাৎ আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। মাত্র আধা ঘণ্টার তীব্র এই ঝড়েই উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার কৃষকের ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার সম্ভাব্য উৎপাদন ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০ টন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা, বেইলদিয়া ও নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পড়ে আছে নষ্ট হয়ে যাওয়া পাকা ধান। কোথাও শিলাবৃষ্টির আঘাতে ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও পুরো ক্ষেতই পানিতে নুয়ে গেছে। শুধু ধান নয়, বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেতেও একই ধরনের ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় ৪০০টি বসতবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪০টি পরিবার একেবারে ঘরহীন হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে, কোথাও গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা জানান, ঝড়ের পর থেকেই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে, তাদের জন্য ঢেউটিনসহ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “এই তিনটি গ্রামের প্রায় প্রতিটি কৃষকই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।” তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আকস্মিক এই ঝড়ে বছরের পর বছর পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন সরকারি সহায়তার দিকেই তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারগুলো।