সারা বাংলা

গভীর রাতে আসামির ঘরে এএসআই, ধরে গণপিটুনির ঘটনায় তদন্ত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে মাদক মামলার এক আসামির ঘরে ঢুকে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

শুক্রবার রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে মেহেদী হাসান (২৮) নামে ওয়ারেন্টের আসামির ঘরে পাওয়া যায় এএসআই ইমরান হাসানকে। হাতে হাতেনাতে ধরে পিটুনি দেয় স্থানীয়রা। 

ইমরান হাসান রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলিভদ্রদিয়া এলাকার মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলার সূত্র ধরে এএসআই ইমরান প্রায়ই মেহেদীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার রাতে এএসআই ইমরান সাদা পোশাকে মেহেদীর ঘরে ঢোকেন। তখন স্থানীয়রা তাকে ঘরের ভেতর আটকে ফেলেন। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সালথা থানা পুলিশের একটি দল এসে শেষ রাতে ইমরান হাসানকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে- সাধারণ পোশাকে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় খাটের ওপর বসে আছেন পুলিশ কর্মকর্তা ইমরান হাসান। তার কপাল ও মুখোমণ্ডলে ছোপ ছোপ রক্ত। আহত অবস্থায় তাকে একের পর এক প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। প্রশ্ন করতে করতেও তাকে চড়-থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরান হাসানের কাছ থেকে কিছু আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে। একজনকে বলতে শোনা যায়, গভীর রাতে আসামির স্ত্রীর সঙ্গে কী? তখন ইমরান হসান কোনো একজনকে বলেন, “তুই তো আমার ভাই।” তখন ওই ব্যক্তি তাকে থাপ্পড় মেরে বলেন, “ভাই, না?” 

তখন ওই ব্যক্তি (ভিডিওতে দেখা যায়নি) মোবাইলে একটি অডিও শোনান। যেখানে এক নারীর কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে।

তবে ভিডিওটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করেনি রাইজিংবিডি ডটকম। 

মেহেদী হাসানের পরিবারের দাবি, এটি পরকীয়াজনিত ঘটনা। তাদের অভিযোগ, এএসআই ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মেহেদীর স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং ঘটনার রাতে গোপনে ঘরে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে।

অন্যদিকে, এএসআই ইমরান হাসান দাবি করেন, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে গভীর রাতে একা এবং সাদা পোশাকে অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান জানান, মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে মারধর করে। কেন তিনি একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া সেখানে গিয়েছিলেন; বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।