সারা বাংলা

ঝড়ে আম ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে আম ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে রয়েছেন।

ঝড়ে অনেক ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য আম গাছ ও বড় ডাল ভেঙে পড়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় আমচাষি ও শ্রমজীবী মানুষরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার সারা দিন তীব্র গরমের পর সন্ধ্যায় কিছুটা বৃষ্টি হলেও রাত ১২টার দিকে বজ্রপাতসহ ঝড়ের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে।

শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ছোটচক মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা ইসরাইল হোসেন বলেন, রাত ১২টার দিকে প্রচণ্ড বেগে বাতাসের ঝাপটা আসার সাথে সাথেই বিদ্যুৎ চলে যায়; পরে জানা যায় ইসরাইল মোড় ও সহড়াতলাসহ বেশ কিছু জায়গায় নেসকোর খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জালমাছমারি এলাকার আমচাষি সেরাজুল ইসলাম করে বলেন, গাছের ডালে এখন আম ঝুলছে, কিন্তু ঝড়ে ডাল ভেঙে ও গাছ উপড়ে যাওয়ায় আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে মাঠ পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে শিবগঞ্জের নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ঝড়ে ৩৩ কেভির মেইন লাইনের কিছু খুঁটি ভেঙে যাওয়া ও হেলে পড়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং আমাদের কর্মীরা দ্রুত মেরামতের জন্য মাঠে কাজ করছেন।

অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, পুকুরিয়া ও ছত্রাজিতপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় পাঁচটি খুঁটি ভেঙে গেছে। মেইন লাইনের কাজ চলায় সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও দ্রুতই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।