সারা বাংলা

গাজীপুরে চোর সন্দেহে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ 

গাজীপুরের কালীগঞ্জে চোর সন্দেহে এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া গ্রামের বিএনপি মোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত সিরাজ মিয়া উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং পানজোড়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শাহীন একই গ্রামের নাজিমুদ্দিন নাজিরের ছেলে। তিনি পেশায় অটোচালক।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শাহীনকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করছেন সিরাজ মিয়া। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কোনো ব্যক্তিকে হাতেনাতে না ধরে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে এভাবে নির্যাতন করা ঠিক নয়। তারা জানান, চুরির অভিযোগ থাকলে ওই ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়াই উচিত ছিল। পরবর্তীতে চুরির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় শাহীনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

ভুক্তভোগী শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজ মিয়া বলেন, “শাহীন আমার চাচাতো ভাই। সে বিভিন্ন সময় চুরির সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি নির্মাণাধীন একটি বাড়ি থেকে প্রায় ৩০টি প্লেন সিট চুরি করে নিয়ে গেছে। আগেও আমার ৪০ কেজি লোহার রিং চুরি করে বিক্রি করেছে। এলাকাবাসী তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। তাকে আরো মারধর করা হচ্ছিল, আমি হালকা শাসন করে ছেড়ে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে নাগরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিম সরকার বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে শুনেছি। বিষয়টি খুব জটিল কিছু নয়, ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে সামান্য শাসন করে ছেড়ে দিয়েছে।”

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”