কক্সবাজারের টেকনাফে ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতদের আস্তানায় তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা অপর দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদেরও মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- ওই এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে রবিউল ইসলাম রবি, নুরুল কবিরের ছেলে মজিদ ও নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ওরফে কালানি।
নিহত রবিউল ইসলাম রবির বাবা রুহুল আমিন বলেন, “আমার ছেলেকে মধ্যরাতে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় মোর্শেদ আলম। এরপর ভোরে পাহাড়ে আমার ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দেয়। কী কারণে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে আমি জানি না।”
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি উত্তর শীলখালী পাহাড়ি এলাকায় যান। সেখানে একজনের মরদেহ দেখতে পান। পাশেই একটি কোদাল পাওয়া যায় এবং নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তিনি বলেন, “পরিবারের সদস্যরা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে রওনা হন। পথে তাদের মৃত্যু হয়।”
চেয়ারম্যান আমজাদ বলেন, “স্থানীয়দের ধারণা, নিহতদের মধ্যে দুইজন অপহরণ ও ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়া একজনের বিরুদ্ধে ৬-৭টি মামলা রয়েছে।”
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, “উত্তর শীলখালী পাহাড়ি এলাকায় ডাকাত দলের আস্তানা থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।”