সারা বাংলা

শায়েস্তাগঞ্জে অব্যাহত লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। দিনে-রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে না পারার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই কয়েকবার বিদ্যুৎ যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় একটানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি, চার্জার লাইট কিংবা কেরোসিনের বাতির ওপর নির্ভর করে পড়ালেখা করতে হচ্ছে তাদের। 

উপজেলার সুতাং এলাকার সুমন মিয়া, পারভীন আক্তার, রাজু আহমেদসহ একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, এবার তীব্র গরম পড়ছে। এর মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। রাতেও বিদ্যুৎ যাওয়া আসার মধ্যে থাকে। ফলে পড়ালেখা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসএসসির কেবল একটি মাত্র পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বই রিভিশন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। 

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে পৌর এলাকার ব্যস্ত বাজার ও রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন এলাকায় রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকতে দেখা যায়। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকে জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করলে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই বাধ্য হয়েই তারা নির্ধারিত সময়ের পরও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, অনেকেই স্বীকার করেছেন, জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সবাইকে এগিয়ে আসা জরুরি।

শায়েস্তাগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আ স ম আফজল আলী জানান, লোডশেডিংয়ের মধ্যেও ব্যবসায়ীরা নিয়ম নেমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটরিং করা হলেও বাস্তবায়নে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ নির্দেশনা কার্যকর করা সম্ভব।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেন্যারেল ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান জানান, সার্বিক বিদ্যুৎ সংকটের কারণেই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।