সুগন্ধা নদীর বুকে নোঙর করে থাকা জাহাজটি দূর থেকে সাধারণই মনে হয়। কাছাকাছি গেলে বোঝা যায়, এটি শুধু একটি ভাসমান ডিপো নয়, একটি থেমে থাকা সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতীক।
যমুনা অয়েল কোম্পানির ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ভাসমান বার্জ ডিপো দুই বছরের বেশি সময় ধরে অচল। এই ডিপোর ভেতরের ছয়টি টেংকিতে ছিল ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল। সেটি তেল অপর একটি বার্জে স্থানান্তর করে দুই বছর ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে জ্বালানি সংকটের মধ্যে অব্যবহৃত এই ডিজেল বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। এই ডিপো সচল থাকলে প্রতি মাসে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ হতো। ঝালকাঠি, বরিশাল ও ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এর প্রভাব ছিল। বরিশাল বিভাগের পাশাপাশি শরীয়তপুর আর মাদারীপুরও এই সরবরাহ চক্রের (চ্যানেল) অংশ ছিল।
ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বর্তমানে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। ঠিক এমন সময়েই এই ডিপোর অচলাবস্থা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় তেল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, “দুই বছর ধরে ডিপোটি বন্ধ। এই সময়ে চাহিদা বাড়ায় আমরা বাইরে থেকে বেশি দামে তেল আনতে বাধ্য হচ্ছি।”
আরিফুর রহমান নামে অন্য একজনের কথায় উঠে আসে হতাশার কথা। তিনি বলেন, “এখানে তেল আছে, কিন্তু আমরা পাচ্ছি না। এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”
ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, এই যমুনা ডিপোটি মূলত একটি ভাসমান বার্জ। জাহাজের তলায় ছিদ্র ধরা পড়ায় সেটি বন্ধ রাখতে হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে সেই তেল অপর একটি বার্জে রেখে পুরানো বার্জটি সংস্কারের জন্য দুই বছর আগে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল। গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় সেটি সংস্কার শেষে ডিপোতে নোঙর করে আছে। তবে, তেল রয়েছে সেই আগেরটিতে। এখন পর্যন্ত সেই তেল সংস্কার হওয়া বার্জে স্থানান্তর করা হয়নি।”
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ঝালকাঠীর ডিপোর সিনিয়র অফিসার আবুল বাশার জানান, বার্জে ছিদ্র হলে তো ঝুঁকি নিয়ে তেল সরবরাহ করা যায় না। মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে, এখন তেল সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।”
তার দাবি, “তেল যা আছে তা ব্যবহার অযোগ্য। তেলের সঙ্গে গাদ রয়েছে। নতুন করে তেল এলেই সরবরাহ শুরু হবে।”
এদিকে, ডিপোর ভেতরে জমে থাকা ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এই তেল পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়া গেলে অন্তত সাময়িক সংকট কিছুটা কমানো যেত।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন বলছে, দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ডিপোটি আবার চালুর পথে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ডিপোটি ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরেছে এবং আগামী মাস থেকেই কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, “এটি চালু হলে আমাদের তেলের মজুদ বাড়ানো সহজ হবে। ট্যাংকারে আসা তেল সংরক্ষণের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।”