সারা বাংলা

মানিকগঞ্জ-সিংগাইর আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মানিকগঞ্জের যোগাযোগ সহজ ও আরামদায়ক করতে ২০২২ সালে উদ্বোধন করা হয় মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। এতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাড়তি চাপ কমলেও এ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। উদ্বোধনের পর থেকে এ মহাসড়কে কমপক্ষে এক ডজন ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দিন দিন দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাওয়ায় সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট এ জেলায় অবস্থিত। ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সারা বছর থাকে যানবাহনের চাপ। এ মহাসড়কের চাপ কমাতে ২০১৭ সালে ২৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে এ ৩২ কিলোমিটারের আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। সড়কটিতে পরিবহন বাসের চাপ না থাকলেও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ রয়েছে। এছাড়া সিএনজি, অটোরিকশাসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল করে। 

প্রাইভেটকার চালক মিজানুর রহমান বলেন, সড়কটির দুইপাশে একাধিক সংযোগ সড়ক আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নানা যানবাহন নিয়ে এ সড়কে উঠে থাকেন। সংযোগ সড়ক থেকে প্রধান সড়কে উঠতে কোনো সিগন্যাল বা রোড ডিভাইডার নেই। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। 

মোটরসাইকেল আরোহী মেহেদী হাসান বলেন, সড়কের বেশিরভাগ একপাশে ঢালু খাল, বেশিরভাগ মার্কেট সড়কের সঙ্গে ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। খাল ঢালু হওয়ায় ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। 

স্থানীয় যাত্রীরা বলেন, এ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে স্বাভাবিক যানবাহনের চেয়ে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া বেশিরভাগ যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প গ্রহণ ও বেপরোয়া গতির যানবাহন চালকদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা। 

সামাজিক সংগঠন স্বপ্ন-এর মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চয়ন শেখ বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এ সড়কে চলাচলরত চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সড়কটি চার লেনে প্রশস্ত করে ডিভাইডার, ফুটপাথ এবং সাইনবোর্ড স্থাপন করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করা উচিত। কারণ এগুলো ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি বেশি হয়। অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে সড়ক সংকুচিতকরণ রোধ করা এবং খালের পাশে নিরাপদ স্লোপ তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছে। 

সিংগাইর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফাহিম আসজাদ বলেন, এ সড়কটিতে কোথাও কোনো যানজট দেখা দিলে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সড়কে দুর্ঘটনা হলে উদ্ধার তৎপরতা থেকে শুরু আইনি সব অধিকার নিশ্চিত করতে পুলিশের টিম কাজ করেন। 

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহরিয়ার আলম বলেন, মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কোনো প্রকল্প নেই। তবে সড়কের মাঝে বাজার ও মার্কেট এলাকাগুলোতে সংস্কার কাজ করা হবে। 

মানিকগঞ্জ -২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের চাওয়া দুর্ঘটনারোধে সড়কটি প্রশস্ত হোক। এ চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেছি। আশা করি দ্রুত ভালো সংবাদ দিতে পারবো।