ঘন ঘন লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কমেছে পর্যটক আগমনের সংখ্যা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে সৈকতের জিরো পয়েন্টে হাতেগোনা কিছু পর্যটক থাকলেও লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান ও গঙ্গামতিসহ অধিকাংশ পর্যটন স্পট পড়ে আছে অনেকটাই ফাঁকা।
হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক, যানবাহন চালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫ দিনে উল্লেখযোগ্য হারে পর্যটক উপস্থিতি হ্রাস পাওয়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে, লোডশেডিংয়ের সঙ্গে তীব্র গরমে কুয়াকাটায় অবস্থানরত পর্যটকরা চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে গাড়ি নিয়ে আসা পর্যটকরা বাড়ি ফেরা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
বাগেরহাট থেকে আসা পর্যটক নুরুল কবির বলেন, “রবিবার পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছি। আমরা একটি মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছি। আসতে আমাদের অন্তত ৫টি পাম্পে লাইনে দাড়িয়ে থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল নিতে হয়েছে। ফলে বাচ্চাদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। আজ রাতে আবার ফিরতে চাই, কিন্তু গাড়ির তেলের ব্যবস্থা এখনো হয়নি। ফুয়েল ট্যাঙ্ক পুরো লোড করতে না পারলে তো রাতে ভোগান্তি নিয়ে ফেরা যাবে না।”
টাঙ্গাইল থেকে আসা পর্যটক সুশিল-সীমা দম্পতি বলেন, “আমরা বাসে কুয়াকাটা এসেছি। তবে ভাড়া আগের চেয়ে একটু বেশি নিয়েছি। কিন্তু কুয়াকাটা এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। প্রচন্ড গরম তার ওপর আবার বিদ্যুৎ থাকে না। তেলের অভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ জেনারেটরও চালাতে পারছে না।”
হোটেল ফ্রেন্ডস পার্কের ম্যানেজার পারভেজ হোসেন বলেন, “দিনে-রাতে কয়েকবার করে লোডশেডিং দেওয়া হয়। জেনারেটর চালু রেখে পর্যটকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে পাম্প থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল না পাওয়ায় পুরোপুরিভাবে সেই সেবা দিতে পারছি না। যে কারণে অনেক পর্যটক আমাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। কুয়াকাটায় পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে লোডশেডিং কমানো এবং তেল সংকট নিরসনের দাবি জানাচ্ছি।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, “কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প বিবেচনার কথা উল্লেখ করে লোডশেডিং এবং তেল সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, এ এলাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে লোডশেডিং কমে আসবে।”