সারা বাংলা

৮৮ লাখ টাকা আত্মসাত: ডা. তন্ময় প্রকাশ কারাগারে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ছয়টি মামলায় পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে পাবনা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপসহকারী পরিচালক মনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের মৃত বিরাট চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে পাবনা পৌর শহরের দিলালপুর শ্যাম ঠাকুর রোডে স্টার এ্যাপার্টমেন্টে-৭০৪ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক থাকাকালে কেনাকাটা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মো. শহিদুল আলম বাদী হয়ে ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেন। ২০২২ সালের ১৩ ও ১৪ জুন মামলাগুলো দায়ের করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। 

মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন, পাবনার জেলা মার্কেটিং অফিসার হুমায়ুন কবির, পাবনা পৌর শহরের ছাতিয়ানী মহল্লার মৃত আব্দুল আওয়ালের ছেলে ঠিকাদার তিন ভাই এ এইচ এম আরেফিন, এ এইচ এম রেজাউন এবং এ এইচ এম ফয়সাল।

মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পথ্য সামগ্রীর মূল্য প্রকৃত বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দেখিয়ে ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬৮ টাকা আত্মসাত করেছেন। 

দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনোয়ার হোসেন তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আদালতে ছয়টি মামলার আলাদা আলাদা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এই মামলাগুলোতে বুধবার নির্ধারিত হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত হন তন্ময় প্রকাশ। তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন পেশ করলে দুদকের আইনজীবীরা বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে সরাসরি পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি মলয় কুমার দাস রায় এবং ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসের পক্ষে ছিলেন সাজ্জাদ ইকবাল লিটন এবং আলী রেজা পারভেজ।