ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার ভাবনা হাওরে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে শুধু বানিয়াচংয়েই প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ৫ হাজার ৬০০ টন ধান তলিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় এক হাজার।
ভাবনা হাওরে ২৪ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন ঈমানী মিয়া। সার, বীজ, সেচ ও পরিচর্যায় তার খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। এই কৃষক বলেন, “আগাম বন্যায় পুরো জমি তলিয়ে গেছে। এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারব না।”
তিনি জানান, এই জমি থেকে প্রায় ৮০০ মণ ধান পাওয়ার কথা ছিল। যার বাজার মূল্য ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ধান হারিয়ে ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
ঈমানী মিয়া বলেন, “ছোটভাই চার লাখ টাকা খরচ করে ওমানে গিয়েও কিছু করতে পারেনি। ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে বোরোতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হলো। আয় নেই, ঋণ আছে, দুশ্চিন্তায় আছি।”
একই হাওরে শাহাবুদ্দিনের ৩৬, মুহিত মিয়ার ২০, কবির মিয়ার ৩০ এবং ফজল মিয়ার ২৫ বিঘা জমির ধানও পানির নিচে চলে গেছে। তাদের ভাষ্য, পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কিছুই ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
একই এলাকার কৃষক পরিবারের কলেজছাত্র দেলোয়ার হোসেন রাজু বলেন, “দুদিন পানির নিচে থাকায় ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ কেউ কাটছেন, কিন্তু খরচ বেশি। লোকসানই বাড়বে।”
বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহেদ আলী বলেন, “গড়ে ৭০ শতাংশ ধান পেকেছিল। কয়েকদিন আগেও কৃষকদের হাসিমুখে হাওরে যেতে দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য নেই।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হিসাবে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দীপক কুমার বলেন, “এখনো মোট আবাদ করা ধানের ৪৯ শতাংশ কাটা বাকি। বৃষ্টি ও পানি বাড়তে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।”