সারা বাংলা

২ মে সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বরণে চলছে প্রস্তুতি

নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিলেট সফরকে ঘিরে পুরো নগরজুড়ে এখন ব্যস্ততা, প্রস্তুতি আর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ২ মে নির্ধারিত এই সফরকে সামনে রেখে প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে চলছে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সফর সফল করতে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়।

সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই, সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন- সবকিছুতেই দেখা যাচ্ছে তৎপরতা। সিলেট সিটি করপোরেশন অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ করে সিলেট সার্কিট হাউস এলাকায় চলছে জোর প্রস্তুতি। রং করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন কার্যক্রমসহ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী যাবেন হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার শরীফ জিয়ারত করতে। এরপর তিনি বাসিয়া নদী পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এমনটি আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একইদিন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ক্রীড়া কার্যক্রম উদ্বোধন এবং একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করতে পারেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চাঁদনীঘাট এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধনও এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সার্কিট হাউস সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী আলিয়া আমজদের ঘড়ি এলাকাও সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত অবস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচি। সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরো সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, নজরদারি এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছেন তারা।

চাঁদনীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী বর্মণ দাস বলেন, ‍“প্রধানমন্ত্রী আসছেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। শহরজুড়ে যে প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা চলছে, তাতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি, এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়নে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পুরো সিলেটবাসী প্রস্তুত রয়েছেন। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে দলকে সাংগঠনিকভাবে পরিচালনার বার্তা দিবেন তারেক রহমান।” 

তিনি বলেন, “বরাবরই তারেক রহমানকে সিলেটবাসী আনন্দের সঙ্গে বরণ করেছেন ।এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সিলেট আসছেন, আমি আশা করি, মানুষ উনাকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে বসে আছেন।” 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে সিলেটজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল থেকে শুরু করে সব জায়গায় ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাঠে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।”    সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।”