সারা বাংলা

হাওরজুড়ে পানির রাজত্ব, কৃষকরা নিঃস্ব

যে ধান ছিল কৃষকের সারা বছরের রুজির উৎস, তা এখন পানির নিচে। চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে হতাশা আর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন কৃষকরা। হাওরের চারদিকে এখন শুধু পানি আর পানি। সোনালি ধানের শীষের কোনো চিহ্ন নেই। কয়েকদিন আগেও যেখানে ধান কাটার ব্যস্ততা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। 

হঠাৎ করেই বাড়তে থাকা পানিতে আধাপাকা ও পাকা ধান মুহূর্তেই তলিয়ে গেছে। শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেক কৃষক ধান কাটতে নামলেও তা আর ঘরে তুলতে পারেননি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন, এখন ফসল হারিয়ে পরিবার চালানো ও ঋণ শোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঙালের হাওরের কৃষক আব্দুর রুফ বলেছেন,“মাঘ মাসের শীতের কষ্ট সহ্য করে খাইয়া না খাইয়া কত কষ্ট কইরা চাষ করছি। কিন্তু, আজকে আমার সোমার ধান সব পানির নিচে। ইতা ধান কাইট্টা কোনো লাভ হইতো না। কিছুই রইলো না আমার।”

আরেক কৃষক আব্দুল মুকিত বলেন,“ধান কাটার আগেই পানি আইয়া সব শেষ কইরা দিছে। এত এত টাকা ঋণ করে ধান লাগাইছিলাম, এখন কেমনে পাওনাদারের টাকা শোধ করমু বুঝতাছি না, আর নিজেই কেমনে খাইমু।”

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষক বক্কর মিয়া বলেন,“আমরা শেষ মুহূর্তে ধান কাটতে নামছিলাম, কিন্তু পানি এত দ্রুত বাড়ছে যে কিছুই বাঁচাইতে পারি নাই।”

এদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ পর রোদের দেখা মিলেছে। গত রাতে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। অনেকেই কোমরপানিতে নেমে ডুবন্ত ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

সদর উপজেলার কালিপুর এলাকার কৃষক মনির হোসেন বলেন,“এত দিন পরে আজকে রোদ উঠছে। তাই, চেষ্টা করছি, যা পারি কাটার। কিন্তু, অনেক ধান নষ্ট হইয়া গেছে।”

রাতে বৃষ্টি না হলেও উজানের ঢলে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষা বাঁধে চাপ বাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “পানির কারণে ধান কাটায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত ধান কাটার জন্য। মঙ্গলবার পর্যন্ত হাওরে ধান কাটা হয়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। সুনামগঞ্জ জেলায় আবাদ করা ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১২ হেক্টর জমির বেশিরভাগই এখন জলাবদ্ধ। কৃষকদের সহযোগিতা দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। হারভেস্টারের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।”