সারা বাংলা

নাসিরনগরে পানির নিচে ৮০ হেক্টর জমির ধান

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ হাওর। এতে প্রায় ৮০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে। কিছু কিছু জমিতে পানি এতটাই বেশি যে ধান কাটতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাদের অনেকেই কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশের মধ্যে ব্রি ধান-২৯, ব্রি-১০০, ব্রি-৯২, ব্রি-১০২, ব্রি-১০৮ ও ব্রি-৫৮ এখনো কাটা বাকি রয়েছে।

হাওরের একাধিক কৃষক জানান, ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ছিল। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সেই হাসি ফিকে হয়ে গেছে। এখন তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। গত বছর যে জমির ধান কম্বাইন হারভেস্টারে কাটা গেছে, এবার সেই সোনালি স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে গেছে। 

তারা জানান, কষ্টের ফসল ঘরে তুলতেও দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মেদির হাওরের কৃষকরা। ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা।

কৃষক মহন্ত চন্দ্র দাস বলেন, “এবার মৌসুমে ৮ কানি ধানি জমি করেছি ধারদেনা করে। হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এক কানির মতো ধান কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে কেটেছি। বাকি ধান কাটা সম্ভব হবে না। এখন সরকার যদি কিছু সহযোগিতা করে।”

কৃষক রায়ধন বলেন, “সোনার ফসল করেছিলাম অনেক আশা নিয়ে। এখন সব পানির নিচে। ৯ কানির জমির মধ্যে এক কানির ধানও কাটতে পারিনি। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি। আমার মতো হাওরের শত শত কৃষকের একই অবস্থা। পানি না কমলে দুই-তিন দিনের মধ্যে সব ধান পচে যাবে।”

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, “সম্প্রতি দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে মেদির হাওরের ৮০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। একদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।”