প্রায় ১৩ মাস বন্ধ থাকার পর টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে একটি কাঠবোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়। এর আগে, সকালে ট্রলারটি রওনা হয়।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ট্রলারটিতে মোট ৯৬৩ পিস কাঠ রয়েছে। এর মধ্যে, ৫২০ পিস চম্পাফুল ও ৪৪৩ পিস গর্জন। বর্তমানে কাঠগুলো খালাসের কাজ চলছে।
বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হওয়ায় শ্রমিক ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বন্দরে কাঠ খালাস কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সেলিম কায়সার বলেন, “বন্দর বন্ধ থাকায় আমরা দীর্ঘদিন কাজ ছাড়া ছিলাম। এখন আবার ট্রলার এসেছে, কাজ শুরু হয়েছে; এটাই আমাদের জন্য বড় স্বস্তির।”
মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের সংসার চলে এই আয়ের ওপর। বাণিজ্য বন্ধ থাকলে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হয়। এখন অন্তত কাজের সুযোগ ফিরে এসেছে।”
শ্রমিকরা জানান, সীমান্ত বাণিজ্য পুরোপুরি সচল থাকলে তাদের জীবিকা আরো স্থিতিশীল হবে এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে।
কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বন্দর পরিদর্শন করে বলেন, “নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মধ্যেই বাণিজ্য চালু হয়েছে। এতে বৈধ ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।”
সিএন্ডএফ এজেন্ট এফআরবি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশা দেখছেন। এতে ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”
এর আগে, গত ১৪ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাণিজ্য চালু করার আশ্বাস দেন।