নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিক্ষকের ধর্ষণে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করেছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক।
রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যায় মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি জানান।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মেয়েটির মা অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি একই এলাকার একটি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন আমান উল্লাহ সাগর। একই প্রতিষ্ঠানে তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ১৮ এপ্রিল থেকে তিনি ছুটিতে গিয়ে আর মাদ্রাসায় ফেরেননি।
ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ছোটন বলেন, “প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই ছাত্রী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়, তখনও এই ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলাম না। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর আমার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন। এমনকি গ্রামের লোকজন বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ করছেন না।”
এদিকে, শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা সিলেট থেকে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। মেয়ের কাছ থেকে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে নিয়ে তিনি মদন উপজেলার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের শরণাপন্ন হন।
ডা. সায়মা আক্তার বলেন, “শিশুটির গর্ভে থাকা ভ্রূণের বয়স ২৭ সপ্তাহের বেশি (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস)। তার শারীরিক গঠন অত্যন্ত দুর্বল, উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ৮.২ হওয়ায় সে গুরুতর রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। অপুষ্টি ও কৃমিজনিত সমস্যাও রয়েছে। গর্ভস্থ শিশুর মাথার আকার মায়ের পেলভিসের তুলনায় বড় হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় স্বাভাবিক ডেলিভারি প্রায় অসম্ভব এবং সিজারিয়ান অপারেশনও জটিল হতে পারে। শিশুটি মানসিকভাবে ভীত ও ট্রমার মধ্যে রয়েছে।”
মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”