যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ তার ছোট দাদু (দাদার ভাই) কবরের পাশে দাফন করা হবে। এ জন্য জামালপুরের মাদারগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুত করা হয়েছে কবর। স্বজনরা জানান, সোমবার (৪ মে) বিকেলে লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে লিমনকে দাফন করা হবে।
কবর খোঁড়ার দায়িত্বে থাকা লিমনের স্বজন সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইতোমধ্যে কবর প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছোট দাদুর কবরের পাশেই লিমনের চিরনিদ্রার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা কবর প্রস্তুত করেছি।”
লিমনের বড় চাচা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের সাথে কথা বলে পারিবারিক কবরস্থানে লিমনের জন্য কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। কবর খোঁড়া শেষ হয়েছে।”
এর আগে, আজ সকাল ৮টার দিকে লিমনের মরদেহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। তার মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকাহত পরিবারের সদস্যরা। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, “জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
মরদেহ গ্রহণের পর অ্যাম্বুলেন্সযোগে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা। বিকেলের মধ্যেই মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে, প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুইদিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছ শিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে জামিলের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়।
খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ নিখোঁজ শিক্ষার্থী বৃষ্টির।