ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে ঘটনাস্থলের পাশে একটি প্রাইভেটকার খাদে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সাতৈর-মহাম্মদপুর সড়কের পাশে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম রবিউল শেখ। তিনি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। পেশায় কৃষক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুলের বাড়িতে তার শ্বশুর শাহিদুল ইসলাম (শাহিদ শেখ) এবং রবিউল শেখ মোটরসাইকেল নিতে যান। এ সময় একটি শালিস বৈঠকে মোটরসাইকেল দেওয়া-না-দেওয়া নিয়ে জামাই শহিদুল ও শ্বশুর শাহিদুলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে শাহিদ ও রবিউল সেখান থেকে চলে যান। পরে জামাইয়ের ফোন পেয়ে তারা পুনরায় ওই বাড়িতে গেলে এরপরই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
নিহত রবিউল শেখের বাবা গোলাম সরোয়ার শেখ বলেন, “আমার ছেলেকে নিয়ে শাহিদ তার জামাইয়ের বাড়িতে মোটরসাইকেল আনতে যায়। সেখানে তর্ক-বিতর্কের পর আমার ছেলেকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি এ হত্যার সঠিক বিচার চাই।”
তিনি জানান, রবিউল কৃষক ছিল। তার স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে একটি প্রাইভেটকার রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়রা গাড়িটি উদ্ধারে গেলে পাশেই একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। ধারণা করা হয়, হত্যার পর লাশ ফেলে পালানোর সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ সময় উত্তেজিত জনতা গাড়িতে থাকা দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এমনটি জানান তিনি।