ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা শেরপুর জেলার তিনটি উপজেলা শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী গারো পাহাড় বেষ্টিত। এলাকাগুলোর ৯০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর। প্রতিবারের মতো এবারো কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এসব এলাকায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ১৫ হাজার গরু।
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, পাহাড়ে পর্যাপ্ত সজীব ঘাস এবং লতাপাতা থাকায় গরুগুলোর পেছনে আলাদা খরচ করতে হচ্ছে না খামারিদের। যে কারণে অন্যান্য এলাকার চেয়ে গরু পালনে খামারিদের লাভের পরিমাণও বেশি।
খামারিরা জানান, প্রতিদিন ভোরে দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে গরু চরাতে চলে যান পাহাড়ে। সারাদিন রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে পাহাড়ি চারণভূমি ও উঁচু নিচু ঢালের লতাপাতা খায় গরু। সন্ধ্যায় আবার গরু নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সবুজ ঘাস, নির্মল বাতাস আর খোলা চারণভূমিতে লালিত এসব গরু কোরবানির ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ থাকে।
এই গরুর মাংস যেমন নিরাপদ, তেমনি স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। চাহিদা বেশি হওয়ায় শুধু শেরপুর নয়, জেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির জন্য সাধারণ ক্রেতা ও পাইকাররা গরু কিনতে আসেন জানান তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলার ছোট-বড় ১৩ হাজার ৭৩১ জন খামারি রয়েছেন। অনেক পরিবারও গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের সঙ্গে জড়িত। এবার কোরবানির জন্য শেরপুর জেলায় ৯১ হাজার ৭৩৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৬৩ হাজার ৭৪০টি পশুর। প্রস্তুত করা এসব পশু জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের হাট বাজারগুলোতে বিক্রি হবে। ভারত সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার গরু পালন হচ্ছে। এসব গরু পালনের পেছনে প্রায় ২ হাজার পরিবার জড়িত।
সারাদিন ঘাস খাওয়ানো শেষে গরু নিয়ে ঘরে যাচ্ছেন এক খামারি
গারো পাহাড়ের গজনি এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা কষ্ট করে ২-৩টি গরু ঈদের জন্য পালন করেছি। আশাকরি ভালো দাম পাব।”
তিনি বলেন, “ভারত থেকে চোরাই পথে গরু আসা বন্ধ করা দরকার। তাহলেই বাজার ভালো থাকবে।”
শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বালিঝুড়ি এলাকার বাসিন্দা সিসিন মারাক বলেন, “সারাদিন কষ্ট করে গরু পালি। যদি ভারতীয় গরুর করাণে দাম না পাই, তাহলে তো সব পরিশ্রম শেষ। প্রশাসনের উচিৎ ব্যবস্থা নেওয়া।”
নালিতাবাড়ি উপজেলার পানিহাতা এলাকার কৃষক মিজান মিয়া বলেন, “প্রতিবছর ঈদের জন্য দেশি গরু পালন করি। এবারো ৭টি গরু বিক্রি করব। আমাদের গরুর মাংস অনেক স্বাদের। ফার্মের গরুর সঙ্গে আকাশ পাতাল পার্থক্য। বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে আমাদের গরুর।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক ভুঁইয়া জানান, পাহাড়ি এলাকার গরুগুলো সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ মালিক ও খামারিরা গরু মোটাতাজা করতে ওষুধ ব্যবহার করেন না। ফলে পাহাড়ি গরুর চাহিদা বেশি। অনেক পাইকার ইতোমধ্যে পাহাড় এলাকা থেকে গরু কিনে নিয়ে গেছেন। যারা স্বাস্থ্য সচেতন তারাও গরুর কিনতে বেশি আগ্রহী।”
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ বলেন, “স্থানীয় কৃষকদের লাভের কথা বিবেচনা করে অবশ্যই গরু চোরাচালান বন্ধে আমরা কাজ করছি। অবৈধ পথে যেন গরু আসতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি বিজিবি ও পুলিশের নজরে এনেছি। মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করে ভারত থেকে গরু আসা ঠেকানো যাবে।”