হাওর অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গত ১৭ বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেছেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও হাওরের মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি বরং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে হাওর ও আঞ্চলিক উন্নয়নবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “উন্নয়নের নামে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, কিন্তু জনগণ তার সুফল পায়নি। পলি জমে নদী ভরাট হয়েছে। স্লুইসগেট অকেজো হয়ে গেছে। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “হাওরের জন্য প্রয়োজন ছিল স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা। কিন্তু, অতীতে ডুবন্ত সড়ক, জলমগ্ন বাঁধ, খাল সংরক্ষণ কিংবা সবুজবেষ্টনী তৈরির মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে, কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য একসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিভাগীয় তদন্ত, আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন। অতীতে যে লুটপাট হয়েছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরো বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করছে, যেখানে ১০ ধরনের সেবা থাকবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করা হবে। একইভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও ‘পভার্টি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে।”
হাওর অঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অকাল বৃষ্টি ও বজ্রপাত বাড়ছে। তাই, স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত, হারভেস্টার, ড্রায়ার, শ্রমিক সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়ন জরুরি।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “হাওরের উন্নয়ন হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, আবার স্থানীয় লোকজ জ্ঞানও ব্যবহার করতে হবে। প্রকৃতি, কৃষি ও মানুষের জীবন— সবকিছুর সমন্বয় করেই টেকসই সমাধানে যেতে হবে।”