সারা বাংলা

৪২৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ রেখে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন

ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে ফেনী সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান প্রথম প্রান্তিক সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিদ্যালয় বন্ধ রেখে সেই ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল হাই স্কুলে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে প্রাথমিকের প্রায় ৪২৫ শিক্ষার্থীর নির্ধারিত গণিত পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে থেকে বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়। রুটিন অনুযায়ী শনিবার (৯ মে) গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল বিদ্যালয়ের ৪২৫ শিক্ষার্থীর।

তবে একই ক্যাম্পাসের ভেতরে সেন্ট্রাল হাই স্কুলে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার রাতে বিদ্যালয়ের গেটে নোটিশ টানিয়ে এবং অনলাইনে পরীক্ষা স্থগিতের তথ্য জানানো হলেও অধিকাংশ অভিভাবক বিষয়টি জানতে পারেননি। ফলে সকালে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে ফিরে যায়।

ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতি সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুল কেন্দ্রে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১ হাজার ৮৬০ জন। ২৭টি পদের বিপরীতে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন ৫৩ জন প্রার্থী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘‘শিখন ঘাটতি কাটাতে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল। আমরা বন্ধের বিষয়টি জানতাম না। স্কুলে আসার পর শিক্ষকরা জানিয়েছেন পরীক্ষা হবে না। এখানে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ আলাদা, আবার আসা-যাওয়ার জন্যও আলাদা গেট রয়েছে। তবুও কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন কেন বোধগম্য নয়।’’ 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা আমিন বলেন, ‘‘প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪২৫ শিক্ষার্থীর আজ গণিত পরীক্ষা ছিল। কিছু সমন্বয়হীনতার কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকালে আসলেও প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে আগে অবগত হয়েছে। শুক্রবার রাতে অনলাইনে নোটিশের বন্ধের বিষয়টি মাধ্যমে জানানো হয়। নতুন প্রশ্ন তৈরি করে পরবর্তী এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও আমরা ৭ জন শিক্ষক দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিসকক্ষে ছিলাম।’’

শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন কমিশনার মোহা. আলমগীর চৌধুরী বলেন, একই ক্যাম্পাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে অবহিত করা হয়। সেই অনুযায়ী বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, সদরের ১৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন প্রশ্নে প্রথম প্রান্তিক সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলছে। সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে সেন্ট্রাল হাইস্কুলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই ক্যাম্পাস হওয়ায় ছোট ছোট শিশুদের আসা-যাওয়াতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বা ঝুঁকি থাকায় বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জানানো হয়। পরবর্তীতে রুটিনের সবগুলো পরীক্ষা শেষ হলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে এ বিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ বলেন, ‘‘শিখন ঘাটতি কাটাতে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও জেলার ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই বিদ্যালয় বন্ধ রেখে নির্বাচন বা পরীক্ষা বন্ধের বিষয়টি আমি এখনো অবগত না। আমি একটি কোর্সে অফিসের বাইরে আছি। এ বিষয়ে খোঁজ নেব।’’