ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফের ছররা গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) বিকালে কসবা উপজেলার ক্ষিরনাল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৩৬ এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ দুটি বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়।
নিহতরা হলেন- ধজনগর গ্রামের হেবযু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন।
বিজিবির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাশ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (সুলতানপুর) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এবং কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার সিং ও বিশালঘর থানার একাধিক অফিসার।
বিজিবি জানায়, গুলির ঘটনায় বিএসএফ-কে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছররা গুলিতে তারা নিহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় একদল ব্যক্তি অবস্থানকালে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন ও নবীর হোসেনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুইজনের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানায়।
বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতের চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে বিএসএফের বাধার মুখে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে।