সারা বাংলা

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দুজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির মামলায় এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান ওরফে রনি নামের দুই ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (১০ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক এস এম মাসুদ পারভেজ এ রায় দেন।

এস এম আলী আজম (৫৫) আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সোনারামপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। আশিকুর রহমান ওরফে রনি (৪৫) কুমিল্লার কতোয়ালী থানার কাপ্তান বাজারের বাসিন্দা হলেও সোনারামপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। 

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান আলী আজম ও আশিকুর রহমান। সেখানে এস এম আলী আজম নিজেকে সাপ্তাহিক সত্যের দিগন্ত পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং আশিকুর রহমান ভোরের ডাক পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। তারা বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা এবং করোনা মহামারির কারণে ১ বছর ছয় মাস বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সরকারি অনুদানের টাকা খরচ না করে প্রধান শিক্ষকের পকেটে রাখার অভিযোগ তুলে অনুদানের টাকা খরচের বিল-ভাউচার দেখতে চান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, বিল দেখানের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন এবং দেখতে হলে তিনি দেখবেন। এতে আলী আজম ও আশিকুর রহমান ক্ষিপ্ত হন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন। পরে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। এতে সন্দেহ হওয়ায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন এস এম আলী আজমকে আটক করেন। তবে, আশিকুর রহমান মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে আলী আজমকে আশুগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।

সে দিনেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ছদ্মবেশে প্রতারণা, ছদ্মবেশে প্রতারণার ও অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের ধারায় (দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারা) আশুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

তদন্ত শেষে পুলিশ একই ধারায় আদালতে তাদের দুজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে রবিবার দুপুরে আদালত দুই আসামিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেছেন, “সাজাপ্রাপ্তরা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা জায়গায় চাঁদাবাজি করতেন। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন। এতে বাদী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”

আশুগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেছেন, “সাংবাদিকতা মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। প্রকৃত সাংবাদিকরা সব সময় দেশ, সমাজ ও নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। সাজাপ্রাপ্তরা নামসর্বস্ব পত্রিকার কার্ড ব্যবহার ও অনুমোদনহীন ফেসবুক পেজ খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। তারা মূল ধারার সাংবাদিক নন। এ রায় অপসাংবাদিকতা ও ভুয়া সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী বার্তা।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার বলেছেন, “আজকেই ওই মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তাই, দুই আসামি আজ আদালতে উপস্থিত হন। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদেরকে ইতোমধ্যে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”