সারা বাংলা

বরগুনায় কোস্ট গার্ড কমান্ডারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

এক যুবককে আটক করে নির্যাতনের অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা কোস্ট গার্ড স্টেশন কন্টিনজেন্টের কমান্ডার মো. সুজাউদ্দিন মাহমুদসহ অজ্ঞাত আরো ছয়জনের বিরুদ্ধে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের নির্দেশে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানাগেছে, গত ৫ মে (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকঘর-সংলগ্ন এলাকা থেকে মো. নাঈম নামের এক যুবককে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করে পাথরঘাটা স্টেশনের কোস্ট গার্ড সদস্যরা। এর দুই দিন পর আটক যুবককে আদালতে হাজির করা হলে ওই যুবক বিচারকের কাছে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

নাঈমের জবানবন্দিতে বলা হয়, আটক করার পর তাকে কোস্ট গার্ড অফিসে নিয়ে তিন তলার একটি কক্ষে মারধর করেন কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. সুজাউদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজন সদস্য। লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার বাম হাতের কব্জি ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। 

এ ঘটনায় আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন মো. নাঈম। আদালত ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরগুনা পুলিশ সুপারকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত রবিবার (১১ মে) পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেছেন, “আদালতের নির্দেশে থানার একজন পুলিশ পরিদর্শক মামলা করেছেন। মামলাটি আমি নিজেই তদন্ত করছি।”

এ বিষয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে পাথরঘাটা কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার বিষয়ে জানতে পাথরঘাটা কোস্ট গার্ড স্টেশন কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. সুজাউদ্দিন মাহমুদের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও রিসিভ করেননি।