সারা বাংলা

ভিডিও ভাইরালের পর নবগঠিত খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

নবগঠিত খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটির আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে মাদকসেবন করে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কমিটি ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অব্যাহতি এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানান। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে দুটি কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

তাজিম বিশ্বাসকে আহ্বায়ক, আরিফুর রহমান আরিফকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাবিবুর রহমান খান বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট খুলনা মহানগর আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩০ সদস্যের খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ মে) দুপুরে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফর খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রত্যাখ্যান ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিতে অনুসারীদের নিয়ে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনের আগে আবু জাফরের সমর্থকেরা সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে অতীতে পাঁচটি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি মাদক সেবন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।

তারা আরো অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব খান ইসমাইল হোসেনকে ২০২০ সালে জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি জলমা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সদস্য বলেও দাবি করেন তারা।

তবে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগমুহূর্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দিয়ে আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 

এর আগে আবু জাফর নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘‘১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানলাম। এই মুহূর্ত থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পদ থেকে নিজেকে মুক্ত করলাম।’’ পরে আবু জাফর সংবাদ সম্মেলন না করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যান। তার সমর্থকেরা এ সময় মিষ্টি বিতরণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে ফিরোজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি মাটির মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করি। লেখালেখি করি, আবৃত্তি করি। পথশিশুদের নাচ-গান শেখাই, খেতে দিই। মজার ছলে মানুষের সঙ্গে মিশে কখনো মাছ বিক্রি করি, কখনো পান বা কাপড় বিক্রি করি। এ রকম অনেক ভিডিও আমার ফেসবুকে আছে। এটিও তেমন একটি ফানি ভিডিও। এক ছোট ভাই মজার ছলে এটি করেছিল। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি ডোপ টেস্ট করাতে রাজি। আমার শরীরে জীবনে একটা সিগারেটের ধোঁয়াও যায়নি।’’ 

২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর আবদুল মান্নানকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফাকে সাধারণ সম্পাদক করে খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ১০ জুন ৩১ সদস্যের ওই কমিটি ২৫১ সদস্যে সম্প্রসারণ করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় সংসদ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।