পাবনার বেড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে পেঁচাকোলা ঘাট। সেখান থেকে ট্রলারে কয়েক মিনিট নদী পাড়ি দিলেই চর পেঁচাকোলা। এই চরেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৯০ বছর বয়সী নুরজাহান বেগম।
ভাঙাচোরা ঘরে খেয়ে না খেয়ে চলছে এই বৃদ্ধার জীবন। দেখারও কেউ নেই তার। মারা গেলে কেউ জানবে কি না সেটা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
আলাপকালে নুরজাহান বেগম জানান, তার স্বামী জয়নাল আবেদীন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। একমাত্র ছেলেও মারা গেছে প্রায় চার মাস আগে। ছেলের মৃত্যুর পর পুত্রবধূ নাতিকে নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে তার খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে।
দুপুরে কী খেয়েছেন জানতে চাইলে নুরজাহান বেগম জানান, তিনি রোজা রেখেছেন। সেহেরিতে খেয়েছেন সামান্য ভাত আর আলু ভর্তা। ইফতারে কী খাবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “রাতে যে ভাত বেঁচে ছিল, তা পানিতে ভিজিয়ে রেখেছি, সেটাই দিয়ে ইফতার করব।”
স্থানীয়রা জানান, একটি ভাঙাচোরা ছোট খুপরি ঘরে একাকীত্ব আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে দিন পার করছেন নুরজাহান বেগম। চরে অনেক দূরে দূরে মানুষের বসবাস থাকায় কেউ এই নারীর খোঁজ নিতে পারছেন না। তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কেউ নেই।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান বলেন, “নুরজাহান বেগমের বিষয়টি আমি জেনেছি এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা বলেন, “বিষয়টি জানা ছিল না। দ্রুত খোঁজ নিয়ে ওই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।”