সারা বাংলা

গোপালগঞ্জে চলছে কবি সুকান্ত মেলা

কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চলছে তিন দিনব্যাপী ১৪তম সুকান্ত মেলা। এই মেলাকে ঘিরে কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক প্রেমীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মেলাটি কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কবি সুকান্তের স্মৃতি ধরতে রাখতে কবির রচিত বইয়ের পরিধি বাড়ানো ও অডিটরিয়ামটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। যাতে নতুন প্রজন্ম কবি সুকান্ত সম্পর্কে জানাতে পারেন।

মেলা দেখতে আসা হৃদয় শেখ বলেন, “উনশিয়া গ্রামে কবি সুকান্ত মেলা হচ্ছে শুনে দেখতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। কবির পৈত্রিক বাড়ি ঘিরে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছি।”

অপর দর্শনার্থী মিমি বিশ্বাস বলেন, “এবারের মেলায় কবি সুকান্তর বই নিয়ে কোনো স্টল নেই। এমন একজন কবির মেলা তার লেখা বই নেই এটা দুঃখজনক। আমরা চাই মেলায় বইয়ের স্টল আর বইয়ের সংখ্যাও বাড়ানো হোক।”

স্থানীয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলু বলেন, “কবি সুকান্ত কেবল একজন কবিই নন, তিনি নিপীড়িত মানবতার মুক্তির জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। শুধুমাত্র তার মৃত্যুবার্ষিকীতে মেলা হয়। কবির জন্মদিনেও আয়োজন থাকা উচিত।” 

বুধবার (১৩ মে) উনশিয়া গ্রামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সন্ধ্যায় কবি সুকান্তের প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন নিতাই রায় চৌধুরী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ- জামান।

আগামী শুক্রবার মেলা শেষ হবে। শেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, “কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আদর্শকে বর্তমান যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, মেলার মধ্যে দিয়ে কিছুটা হলেও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বাঙালি জাতি বা আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা তুলে ধরতে পারব। আমরা শুধু মেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না, এ মেলাকে প্রাণবন্ত করতে আরো পরিকল্পনা রয়েছে।”

সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “কবি সুকান্ত শোষিত মানুষদের পক্ষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কবিতা লিখেছেন। তার প্রতিটি কবিতায় ছিলো প্রতিবাদের সুর। বর্তমান সরকার তার চেতনাকে আগামী প্রযন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।”