সারা বাংলা

জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন, রাজশাহীতে আম নামানো শুরু

রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গুটি জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিন থেকেই আম নামানো, সংগ্রহ, বাছাই এবং বাজারজাতকরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসন ঘোষিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে গুটি আম নামানো শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদন এলাকা রাজশাহীতে জমে উঠতে শুরু করেছে আমের মৌসুম।

স্থানীয় বাজারগুলোতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জাতের কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে। এখন পাওয়া যাবে পাকা আমও। তবে এখন শুধু গুটি জাতের আম মিলবে বাজারে। কিছুদিন পর থেকে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে উঠবে। 

শুক্রবার সকালে নগরীর পবা উপজেলার কুখন্ডী ও বুধপাড়া এলাকায় সীমিত পরিসরে গাছ থেকে আম পাড়তে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অধিকাংশ বাগানের গুটি আম এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। আরও কয়েকদিন পর পুরোদমে আম সংগ্রহ শুরু হবে। রাজশাহীর বড় আমের বাজার বানেশ্বর হাটে জমে উঠবে আমের বাজার। তবে আজ থেকেই জাত ও আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে আম বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনেই গুটি আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামীকাল বানেশ্বর হাটে আশাকরি কিছু আম বিক্রি করতে পারব। তবে মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় খুব বেশি আম পাড়া হচ্ছে না। আমও সেভাবে পরিপক্ব হয়নি। পুরোপুরি পাকতে আরো কয়দিন লাগবে।’’

আমচাষী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘কয়েকটি গাছ থেকে আম নামানো শুরু করেছি। এগুলো নিজেই বাজারে নিয়ে বিক্রি করব। তবে এগুলো গুটি আম। মানুষের চাহিদা বেশি গোপালভোগ ও হিমসাগরে। এই আম নামতে আরও সময় লাগবে।’’

এ দিকে জেলা প্রশাসন অপরিপক্ব আম বাজারজাত বন্ধ ও আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ এবং ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি বাজারজাতের অনুমতি মিলবে। পরে ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই গৌড়মতি সংগ্রহ করা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকারও বেশি।