সারা বাংলা

পাটুরিয়া ঘাটে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা 

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। ঈদের আগে-পরে এ নৌরুটে যানবাহন ও যাত্রী চাপ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহায় বাড়িতে চাপ থাকে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের চলাচলের জন্য। 

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বিগত বছরে এ নৌরুটে চাপ কিছুটা কমলেও আসন্ন কোববানির ঈদে ভোগান্তি বাড়ার আশংঙ্কা রয়েছে। যাত্রী ও যানবাহন চালকদের ভাষ্য, পদ্মার প্রবল স্রোতে ঘাট এলাকায় ভাঙন, পন্টুন মেরামতে দীর্ঘ সময়, লোড-আনলোডের রাস্তার বেহাল দশা ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াবে। 

যদিও ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত ঘাটের প্রস্তুতি শেষ হবে।

কুষ্টিয়াগামী সিএসবি ডিল্যাক্স পরিবহনের চালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘‘নদীর দুইপাড় ঘাটে লোড-আনলোড রাস্তার বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি-বাদলে গাড়ির চাকা ফাইসা যেতে পারে। রাস্তার সংস্কার কাজ তাড়াতাড়ি শেষ না হলে ঈদে ভোগান্তি বাড়বে।’’

ফরিদপুরগামী ট্রাকের চালক লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘‘ঘাটের রাস্তা বেশ ঢালু। নামার সময় তেমন সমস্যা না হলেও উঠার সময় কম শক্তির গাড়ির বেশ বেগ পেতে হয়। ঢাকাসহ আশপাশের হাটে কয়েকদিন পর থেকে কোরবানির পশুর গাড়ি যাবে। কোনো গাড়ি পন্টুনের রাস্তায় আটকা পড়লে ঘাটে জ্যাম লেগে যাবে।’’

রাজবাড়ীগামী যাত্রী নাসিমুল ইসলাম বলেন, ‘‘পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় ফেরি পারাপারে বেশি সময় লাগছে। ঈদ মৌসুমে ফেরি পারাপারে সময় বেশি লাগলে ঘাটে যানজট লেগে যায়।’’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন বা বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাম হোসেন বলেন, ‘‘ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করবে। নদী ভাঙনরোধ ও লোড-আনলোডের সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। ঈদের সময় যাতে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’’ 

গত বর্ষায় পদ্মা নদীর ভাঙনে ৫ নম্বর সহ কয়েকটি ঘাট বিলীন হয়ে যায়। এ বছরও ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় সম্প্রতি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ঘাট সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে ২০ কোটি টাকার চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।