সারা বাংলা

লুঙ্গি-গেঞ্জি গামছা আর মাথায় হেলমেট পরে শেষ ক্লাস উদযাপন

শেষ ক্লাস মানেই স্মৃতির ভিড়ে খানিকটা আবেগ, খানিকটা উচ্ছ্বাস। তবে সেই উদ্‌যাপন যখন হয় লুঙ্গি-গেঞ্জি, মাথায় হেলমেট আর কাঁধে গামছার মতো ব্যতিক্রমী সাজে; তখন তা সহজে হয়ে ওঠে সবার নজরকাড়া।

এমনই ভিন্ন আয়োজনে শেষ ক্লাস উদযাপন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধ ছবি তোলা, আড্ডা, স্মৃতিচারণা এবং হাস্যরসের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন শিক্ষার্থীরা। শেষ ক্লাস উপলক্ষে এমন ব্যতিক্রমী সাজ ক্যাম্পাসে সবার দৃষ্টি কাড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কাজ, নির্মাণ প্রকল্প ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সেই ভাবনা থেকে পেশার প্রতীক হিসেবে মাথায় হেলমেট রাখা হয়েছে। অন্যদিকে লুঙ্গি-গেঞ্জি ও গামছা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে তাদের আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় ফটোসেশন। পরে শিক্ষার্থীরা আড্ডা ও স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন। এ সময় একে অপরের গেঞ্জিতে স্মৃতিময় মন্তব্য, শুভকামনা ও স্বাক্ষর লিখে রাখেন, যা শেষ ক্লাসের আবেগকে আরো গভীর করে তোলে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. তাহমিনা তাসনিম নাহার, অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মো. আবির হাসান, প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. নাছিম সরকার।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষের পথে। এই যাত্রার শেষ ক্লাসটাকে একটু ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয় করে রাখতেই আমরা এমন আয়োজন করেছি। আনন্দের পাশাপাশি বিদায়ের একটা আবেগও কাজ করছে।”

আরেক শিক্ষার্থী হামিম মাহমুদ বলেন, “একসঙ্গে ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট আর ক্যাম্পাস। জীবনের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। শেষ ক্লাস উদযাপনটা তাই শুধু আনন্দ নয়, অনেকটা স্মৃতিকে ধরে রাখারও চেষ্টা।”