সারা বাংলা

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সুন্দরগঞ্জ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও বসতঘর। উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, ছিঁড়ে গেছে সঞ্চালন লাইন। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (১৮ মে) রাতে শুরু হওয়া ঝড় চলে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের মীরগঞ্জ বাজারে থাকা বিশাল আকৃতির একটি বটগাছ হেলে পড়েছে। এর বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ থেকে ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পুরনো বটগাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষসহ ৪টি ক্লাস রুম।

ঝড়ের সঙ্গে অতি ভারী বর্ষণ হওয়ায় তলিয়ে গেছে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। 

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। আরো ছয়টি খুঁটি হেলে পড়েছে। প্রায় ৩০টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। পাশাপাশি শতাধিক স্থানে গাছ পড়ে লাইনের ক্ষতি হয়েছে এবং ছয়টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল বারী মুঠোফোনে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ২১টি টিম কাজ করছে। জোনাল ম্যানেজারের (জিএম) নির্দেশনায় টেকনিক্যাল টিমও কাজ করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেছেন, “প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী তাদেরকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, অনেক গাছ বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় সেগুলো ছিঁড়ে গেছে। সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে।”